ডিটেকটিভ ডেস্কঃঃ
কাঁচা চামড়ার বড় আড়ত পোস্তায় এবারো দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তবে তাদের ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগে আড়তদাররা বলছেন, গতবারের চেয়ে এবার বেশি দামেই চামড়া কিনছেন তারা। এদিকে এবারো খাসির চামড়ার দাম মেলেনি, যেখানে-সেখানে পড়ে নষ্ট হতেও দেখা গেছে।
ঈদের দিন দুপুরের পর পরই ট্রাক-ভ্যানে রাজধানীর নানা জায়গা থেকে কোরবানির পশুর চামড়া আসে পুরান ঢাকার পোস্তায়। ভালো মুনাফার জন্য এক আড়ত থেকে আরেক আড়তে গিয়ে চলে মোসুমি ব্যবসায়ীদের দর কষাকষি।
তাদের অভিযোগ, পাড়া-মহল্লা থেকে চড়া দামে চামড়া কিনলেও সে অনুযায়ী দাম পাচ্ছেন না পোস্তায়।
লবণ দেয়া গরুর চামড়া ৪৭-৫২ টাকা বর্গফুট ঢাকায়, আর এর বাইরে ৪০-৪৪ টাকা বেধে দিয়েছে সরকার। তবে পোস্তায় লবণ ছাড়া গরুর চামড়া আকার ও মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৩শ থেকে ১০৫০ টাকা পিস হিসেবে।
পরিস্থিতি জানতে ভোক্তা অধিদপ্তরের দল আসে সেখানে। পরে চামড়া সংরক্ষণ ও এর দাম নিয়ে জায় সন্তোষও।
তবে রাতের চিত্র ছিল ভিন্ন। অন্যবারের তুলনায় এবার আড়ৎদারদের ব্যস্ততা ছিল কম। বড় ব্যবসায়ীরা সকাল থেকেই প্রক্রিয়াজাতের কাজ শুরু করায়, রাত গভীর হবার আগেই চামড়ার বড় অংশ চলে যায় গুদামে।
এদিকে, কোরবানির পশুর চামড়া কিনে লোকসানের মুখে রাজশাহী, নাটোর, ফেনী ও যশোরের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কেনা দামেও আড়তদারদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে পারেননি বলে অভিযোগ অনেকের। তবে আড়তদারদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনছেন তারা।
নাটোরের চকবৈদ্যনাথ এলাকায় রাস্তার দুই ধারে চামড়ার আড়ত প্রায় আড়াইশটি। যেখান থেকে প্রতিবছর দেশের মোট চাহিদার ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ চামড়া জোগান দেয়া হয়।
কিন্তু এ হাটে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে এসে লোকসানের মুখে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, লাভ দূরের কথা তারা যে দামে সংগ্রহ করেছেন সে দামও দিচ্ছেন না আড়তদারেরা।
তবে, আড়দারদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনেছেন তারা।
প্রশাসন বলছে, কোরবানির পশুর চামড়া পাচার ঠেকাতে ও সিন্ডিকেট বন্ধে তৎপর তারা।
একই অবস্থা রাজশাহীতে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ৭শ থেকে ৮শ টাকায় কেনা চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে ৬শ টাকায়।
এদিকে, চামড়া কিনে বিপাকে ফেনীর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ, কেনা দামের অর্ধেক কমে বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে গরুর চামড়া কিছুটা কম দামে বিক্রি হলেও অবিক্রিত থেকে গেছে ছাগলের চামড়া। এতে পুঁজি হারানোর শঙ্কায় অনেকে।
//ইয়াসিন//